
মোহাম্মদ হানিফ,সহব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম বিভাগ
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ ছড়ানোর ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্ত্রীর দায়ের করা নির্যাতন মামলার চাপ এড়াতে টমটম চালক কামাল উদ্দিন পরিকল্পিতভাবে এক কৃষকদল কর্মীকে জড়িয়ে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছেন।
ঘটনাটি উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের সেনেরখিল এলাকার রমজান আলী মেম্বার বাড়িতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে চরমজলিশপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের আবদুল হকের মেয়ে কামরুন নাহারের সঙ্গে কামাল উদ্দিনের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিনটি সন্তান রয়েছে। সংসারের উন্নতির আশায় স্ত্রী পক্ষের সহায়তায় বিদেশে গেলেও দেশে ফিরে কামাল উদ্দিন টমটম চালানো শুরু করেন। পরে স্ত্রীর পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ধার নিয়ে একটি টমটম কেনেন। কয়েক মাস আগে সেই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়, যা একাধিকবার সালিশে গড়ালেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কামাল উদ্দিন তার স্ত্রীকে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কামরুন নাহার স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন। এর পরপরই কামাল উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন তার স্ত্রীকে কৃষকদল কর্মী ‘সেন্টু’ ধর্ষণ করেছেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
অভিযোগ অস্বীকার করে কামরুন নাহার বলেন, “আমি সেন্টু বা এ ধরনের কাউকে চিনি না। স্বামীর কাছে পাওনা টাকা চাওয়ায় সে আমার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। এখন মামলা থেকে বাঁচতেই মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ দিচ্ছে।” অন্যদিকে অভিযুক্ত কৃষকদল কর্মী সেন্টুও অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, এটি তার সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা।
স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি মূলত পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ঘটেছে। মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে এখন সবার নজর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের দিকে।
দৈনিক প্রবাহ সংবাদ — স্বচ্ছ সংবাদ, নির্ভীক প্রকাশ