
মোহাম্মদ হানিফ, সহব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম বিভাগ
ফেনীতে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন উপলক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে ২০২৬) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ মনিরা হক।
সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে জেলার নিরাপত্তা, যানবাহন চলাচল, পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ্ মনিরা হক বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে সাধারণ মানুষের যাতায়াত, পশু ক্রয়-বিক্রয় এবং কোরবানির কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় জানানো হয়, ঈদকে সামনে রেখে জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহে যানজট নিরসনে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করবে। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির কথাও জানানো হয়।
পশুর হাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। নির্ধারিত স্থানের বাইরে কোনো অবৈধ পশুর হাট বসতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়। পশুর হাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অস্থায়ী মেডিকেল টিম, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি জাল টাকা শনাক্তকরণ এবং চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু থাকবে। কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়।
এছাড়া ঈদ জামাতের স্থানসমূহে নিরাপত্তা জোরদার, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স–এর প্রস্তুতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালুর বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
সভা শেষে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে জনগণের স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফেনীতে শান্তিপূর্ণ, আনন্দমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হবে।