
RMP কোর্স করেই ‘সর্ব রোগের বিশেষজ্ঞ’! আশুলিয়ায় কথিত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ। অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রিপশন থেকে দাঁতের চিকিৎসা—কীভাবে চলছে এসব চিকিৎসাসেবা?
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাভারের আশুলিয়ার নবী টেক্সটাইল এলাকায় ‘ইসরাত জাহান মেডিকেল হল’ নামে একটি ফার্মেসিতে RMP (Rural Medical Practitioner) কোর্স সম্পন্ন করে নিজেকে ‘ডাক্তার’ পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোঃ ইজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে নিজের নামের আগে ‘ডাঃ’ পদবি ব্যবহার করেছেন ইজানুর রহমান। একই সঙ্গে সেখানে নিজেকে চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগে এবং মা ও শিশু রোগে অভিজ্ঞ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শুধুমাত্র RMP কোর্স সম্পন্ন করেই বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেকে বিভিন্ন রোগের বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থাপন করছেন তিনি।
অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রিপশন নিয়েও প্রশ্ন
অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে সাংবাদিকরা ওই প্রতিষ্ঠানে গেলে ইজানুর রহমানের সঙ্গে কথা হয়। এ সময় তিনি জানান, তিনি অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধের প্রেসক্রিপশন করতে এবং ওষুধ বিক্রি করতে পারেন বলে দাবি করেন।
অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রেসক্রাইব ও বিক্রির ক্ষেত্রে আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি যুক্তি দেন, “আমরা যদি বিক্রি ও প্রেসক্রিপশন করতে না পারি, তাহলে কোম্পানি কেন আমাদের কাছে ওষুধ বিক্রি করে?”
তার এমন বক্তব্যকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—RMP কোর্সের মাধ্যমে অর্জিত যোগ্যতা দিয়ে একজন ব্যক্তি আইনগতভাবে কতটুকু চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রেসক্রিপশন করতে পারেন?
দাঁতের চিকিৎসাও করছেন একই ব্যক্তি
অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। সরেজমিনে দেখা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানে দাঁতের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইজানুর রহমান নিজেই রোগীদের দাঁতের বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, RMP কোর্স সম্পন্ন একজন ব্যক্তি কীভাবে চর্ম, যৌন, অ্যালার্জি, মা ও শিশু রোগের পাশাপাশি দাঁতের চিকিৎসাও করছেন?
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জরুরি
স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়ে যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত নিবন্ধন ছাড়া কেউ চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবা দিলে রোগীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন।
তাই ইজানুর রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত নিবন্ধন, চিকিৎসা দেওয়ার বৈধতা, ওষুধ প্রেসক্রিপশনের অনুমোদন এবং দাঁতের চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে এ বিষয়ে মোঃ ইজানুর রহমানের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।